Showing posts with label তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি. Show all posts
Showing posts with label তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি. Show all posts

উন্মোচিত হলো ‘মুক্তিযুদ্ধের গেম’


মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর গেম ‘মুক্তিক‍্যাম্প’ উন্মোচন করা হয়েছে। গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘মাইন্ড ফিশার গেমস’ গেমটি আপাতত শুধু অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মের জন্য আনা হচ্ছে। আর এই গেম খেলতে ১.৫ গিগাবাইট র‍্যামের স্মার্টফোন প্রয়োজন হবে।

এই গেমের শুরুতে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পরিত্যক্ত একটি গ্রাম দেখা যাবে যেখানে কয়েকজন মুক্তিকামী বাঙালি একটি ক্যাম্প বানাতে কঠোর পরিশ্রম করছেন। ক্যাম্পে আশপাশের গ্রামের লোকজনকে যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার থেকে শুরু করে রোগমুক্তির জন্য ওষুধ সবই মজুদ করা হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে পাকিস্তানি হানাদার নিধনের পরিকল্পনা।

প্রাথমিক পর্যায়ে গেমটি অফলাইনে খেলা যাবে। আগামী বছর এপ্রিল পর্যন্ত এই অফলাইন সংস্করণে দেওয়া হবে বিভিন্ন হালনাগাদ এবং যুক্ত হবে নতুন লেভেল। আর আগামী বছর এপ্রিল মাসেই অনলাইন সংস্করণটি বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

‘হিরোজ অব ৭১’ এর প্রতিষ্ঠান ‘পোর্টব্লিস’ এবং ‘গেম ওভার স্টুডিও’ এক হয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘মাইন্ড ফিশার গেমস’। এই প্রতিষ্ঠানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জামিলুর রশিদ ও প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা মাশা মুস্তাকিম।

কিভাবে ব্লগ অথবা ওয়েবসাইটের Page Impressions এবং Traffic বৃদ্ধি করতে হয়?


গুগল AdSense Page Impression কিঃ Page Impression এর কথাটি বল্লেই প্রথমে গুগল AdSense Page Impression এর বিষয়টি চলে আসে। এই জন্য আমি গুগল AdSense Page Impression দিয়ে শুরু করলাম। মূলত Page Impression এর অর্থ হচ্ছে ভিজিটররা কত সময় আপনার ব্লগে অবস্থান করে এবং কতগুলি পোষ্ট/পেজ ভিজিট করে। আপনি যদি Google Adsense কিংবা অন্য কোন কোম্পানির বিজ্ঞাপন Use করে থাকেন তাহলে এই বিষয়টি আপনার জন্য খুবই জরুরী। কারণ আপনার ব্লগে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর এবং Page View না থাকলে আপনি যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেও সফল হতে পারবেন না। এই জন্য ব্লগে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর এবং Page View পাওয়ার জন্য আপনার ব্লগে ভাল মানের কনটেন্ট থাকতে হবে। আপনি যখন ব্লগে ইউনিক এবং ভাল মানের কনটেন্ট লিখবেন, তখন ব্লগ ভিজিট করার জন্য কাউকে বলতে হবে না। আপনার ব্লগের কনটেন্টই সার্চ ইঞ্জিন হতে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর এবং Page View নিয়ে আসবে। Page Impression এবং ভিজিটর বৃদ্ধি করার জন্য নিম্নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরলাম।
  • ভাল মানের কনটেন্টঃ আমি বার বারই এই কথাটি সবাইকে পরামর্শ দিয়ে থাকি যে, ব্লগে সব সময় ভালমানের ইউনিক কনটেন্ট লিখার জন্য। কারণ ব্লগে ভিজিটর পাওয়ার জন্য সহজ ও প্রধান মাধ্যম হচ্ছে ভালমানের কনটেন্ট। আপনি যখন ব্লগে নিত্য নুতন ইউনিক কনটেন্ট ব্যবহার করবেন তখন এই কনটেন্টই আপনার ব্লগে ভিজির নিয়ে আসবে। আর যখন ভিজিটররা আপনার ব্লগে পড়ে ভালমানের কনটেন্ট পাবে তখন তারা পুনরায় আপনার ব্লগ ভিজিট করবেই। অন্যের ব্লগ থেকে কনটেন্ট কপি করে আপনার ব্লগে ব্যবহার করলে আপনি কোন ভাবেই সফল হতে পারবেন না।
  • নেভিগেশন ম্যানুবারঃ আপনার ব্লগ/ওয়েবসাইট যে কোন ধরনেরই হোক না কেন অবশ্যই একটি Menu Bar যু্ক্ত করবেন। ম্যানুবারে আপনার ব্লগের প্রধান বিষয়গুলির Label লিংক যুক্ত করে দেবেন। এতে করে ভিজিটররা সহজে বুঝে নিতে পারবে যে, আপনার ব্লগের বিষয় বস্তু কি। যার ফলে সহজে আপনার ব্লগের Page Impression বাড়তে থাকবে।
  • হোম পেজের পোষ্ট Summary: এটি হচ্ছে যে কোন ব্লগের Page Impression বাড়ীয়ে নেওয়ার সহজ একটা পদ্ধতী। আপনার ব্লগের হোম পেজে পোষ্টগুলির Summary সস্পূর্ণ না দিয়ে অল্প কিছু দেবেন এবং বাকী অংশগুলি Read More বাটন যুক্ত করে দিতে পারেন। এতে করে ব্লগের Page View বাড়বেই।
  • ব্লগের Load Time উন্নত করাঃ আপনার ব্লগটি যদি খুব ধীর গতির হয় তাহলে ব্লগে কোনভাবেই ভিজিটর এবং Page View পাবেন না। কারণ ব্লগ যদি Load নিতে বেশী সময় নেয় তাহলে ভিজিটররা বিরক্ত বোধ করবে এবং আপনার ব্লগ থেকে বেরিয়ে যাবে। অধীকন্তু বাংলাদেশের ইন্টারনেট স্পীডের যা অবস্থা তাতে করে বুঝতেই পারছেন যে, ব্লগ স্লো গতির হলে কি হবে।
  • Popular Posts widget যুক্ত করাঃ আপনার ব্লগে পাঠক ধরে রাখার জন্য এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। ভিজিটররা যখন সার্চ ইঞ্জিন হতে কোন একটি পোষ্টের মাধ্যমে আপনার ব্লগে প্রবেশ করবে, তখন সে আপনার জনপ্রিয় পোষ্টগুলি দেখা মাত্র ভিজিট করতে চাইবে। এটি আপনার ব্লগের সাইডবারে যুক্ত করে রাখতে পারেন।
  • Related Posts যুক্ত করাঃ এটি অবশ্যই আপনার ব্লগ পোষ্টের নিচে যুক্ত করে রাখবেন। আপনার ব্লগের পাঠক যখন কোন একটি পোষ্ট পড়বে তখন ব্রাউজার অটোমেটিক পোষ্ট বাছাই করে এ ধরনের Related Posts শো করবে। এর ফলে পাঠক হয়তো এই পোষ্টগুলিও পছন্দ করতে পারে। কাজেই আপনার ব্লগে পাঠক Engage রাখার জন্য এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
  • Random Posts Widget যুক্ত করাঃ এমন কিছু ভিজিটর থাকবেই যারা প্রতিদিন আপনার ব্লগটি ভিজিটর করে। কাজেই তারা এক ধরনের পোষ্ট দেখতে দেখতে বিরক্তবোধ করবে। আপনি যদি Random Posts Widget টি যুক্ত করে রাখেন তাহলে এটি আপনার ব্লগের অগোছাল পোষ্টগুলি শো করবে। এতে করে পাঠক আপনার ব্লগ এর পোষ্ট সম্পর্কে আরও বেশী ধারনা পাবে।
  • Search Box যুক্ত করাঃ ব্লগে অবশ্যই একটি ভালমানের সুন্দর Search Box যুক্ত করে রাখবেন। কারণ পাঠক যখন আপনার ব্লগে তার পছন্দের কোন কিছু খুজবে তখন সে চাইবে সব পোষ্টগুলি না ঘেটে সার্চ করে খুজে নিতে। এ ক্ষেত্রে যদি আপনার ব্লগে সার্চ বক্স না থাকে তাহলে সে বিরক্ত হয়ে চলে যাবে।
  • পোষ্টের মধ্যে Permalink তৈরীঃ যখন আপনি কোন পোষ্ট লিখবেন তখন এই পোষ্ট সম্পর্কিত পূর্বের পোষ্টগুলি Anchor text আকারে Permalink তৈরী করে দিতে পারেন। এর ফলে ভিজিটর আপনার পোষ্টটি পড়ার সময় পূর্বের ঐ পোষ্টটিও সহজে পড়ে নিতে পারবে। যার ফলশ্রুতিতে আপনার ব্লগের Page Impression বাড়তে থাকবে।
  • সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার এবং Forum এ অংশগ্রহনঃ নতুন পোষ্ট করার সাথে সাথে অব্যশই পোষ্টটি Facebook, Twitter এবং Google+ সহ বিভিন্ন সোসিয়াল মিডিয়া সাইটে শেয়ার করে দেবেন। এছাড়া আপনার ব্লগ সম্পর্কিত অন্য কোন ভালমানের ফোরামে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মাধ্যমে আপনার পোষ্টের লিংকটি শেয়ার করে দিতে পারেন। এতে করে ঐ সমস্ত সাইটগুলি থেকে আপনার ব্লগে ভিজিটর বাড়তে থাকবে।
  • পরিষ্কার Background এবং সুন্দর ফন্টঃ ব্লগে কালো রংয়ের Background এবং অস্বচ্ছ Font ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। আপনি এমন রংয়ের Background এবং Font ব্যবহার করবেন যাতে ব্লগটির কনটেন্ট পাঠক সহজে দেখতে পারে এবং পড়তে পারে। বাংলা ব্লগের ক্ষেত্রে ফন্ট সমস্যা সামাধানের একটি পোষ্ট করে রাখতে পারেন, যাতে করে সহজে পাঠক ফন্ট সমস্যার সমাধান করে নিতে পারে।
  • বিজ্ঞাপনঃ বেশী লাভের আশায় ব্লগের যেখানে সেখানে ইচ্ছামত নিম্নমানের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করবেন না। এতে করে পাঠকরা বিরক্তবোধ করবে এবং হিতের বিপরীত হতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় সঠিক মাপের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করলে আপনার ইনকাম বাড়বে এবং পাঠকরাও কোন বিরক্তবোধ করবে না।
শেষ কথাঃ আপনি যদি উপরের সবগুলি পোষ্ট ভালভাবে মেনে চলেন তাহলে আপনার ব্লগের ভিজিটর এবং Page Impression অবশ্যই বাড়বে। আর যারা Google Adsense বিজ্ঞাপন ব্যবহার করছেন তাদের ব্লগের Page Impression বাড়ার মানেই হচ্ছে আয় বেড়ে যাওয়া। তবে সব কিছুর মূলেই হচ্ছে ব্লগের কনটেন্ট। ব্লগে অবশ্যই ভালমানের ইউনিক কনটেন্ট থাকতে হবে। কোন উপায়েই কপি করা কনটেন্ট ব্যবহার করা যাবে না।

মেসেজ পাঠানোর নতুন অ্যাপ নিয়ে আসছে ইনস্টাগ্রাম


ছবিভিত্তিক সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম তাদের সাইটে মেসেজ পাঠানোর একটি স্বতন্ত্র অ্যাপ চালু করার পরিকল্পনা করছে। গত বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামের এক কর্মকর্তা খবরটি নিশ্চিত করেন বলে জানিয়েছে দ্য ভার্জ।এর আগে ফেসবুক তার মেসেজ পাঠানোর অপশনটিকে স্বতন্ত্র অ্যাপ ‘মেসেঞ্জার’ হিসেবে মুক্তি দিয়েছিল। ইনস্টগ্রামও ফেসবুকের পথ অনুসরণ করে মেসেজ পাঠানোর জন্য ‘ডিরেক্ট’ নামের অ্যাপটি তৈরি করছে।উল্লেখ্য, লেখা বা টেক্সট দিয়ে পোস্ট দেয়ার পরিবর্তে ইনস্টাগ্রামে মূলত ছবি দিয়ে পোস্ট দেয়া হয়। ব্যাপক জনপ্রিয় এই সামাজিক মাধ্যমটি ২০১২ সালে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার দিয়ে কিনে নিয়েছিল ফেসবুক।

‘ডিরেক্ট’ চালু করা হলে ভিন্নধর্মী এই সামাজিক মাধ্যমটির গ্রাহকরা নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেই এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

ইনস্টাগ্রামের এক কর্মকর্তা জানান, কাছের বন্ধুদের সঙ্গে ছবি শেয়ার করা সামাজিক মাধ্যমে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা যেন আরও সহজে করা যায় তার জন্য ডিরেক্ট তৈরি করা হচ্ছে। ডিরেক্ট ব্যবহার করে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা ক্যামেরা ব্যবহার করে বন্ধুদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে পারবেন।

এখন পর্যন্ত চিলি, ইজরায়েল, ইতালি, পর্তুগাল, তুরস্ক ও উরুগুয়েতে ‘ডিরেক্ট’ অ্যাপ ছাড়া হয়েছে।

চীনে খুলছে গুগলের বিরাট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগার


চীনে গুগল সেবা বন্ধ থাকলেও সেখানে বেশ বড় আকারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেন্টার খুলতে যাচ্ছে টেক জায়ান্ট গুগল। সিলিকন ভ্যালিতে গুগলের এধরণের একাধিক সেন্টার থাকলেও এশিয়াতে এধরণের সেন্টার এই প্রথম। ওই সেন্টারে স্থানীয় ও আঞ্চলিক ভাবে কর্মী নিয়োগ করা হবেও বলে গুগল ব্লগ পোস্টে জানা গেছে।

চীন নিজেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এআই সেক্টরে অনেক কাজ করে যাচ্ছে। গুগলের এই ঘোষণা টেক দুনিয়াতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইতিমধ্যে এআই সেক্টরে ড্রাইভার ছাড়া গাড়ি, রোবট ফ্যাক্টরি ও ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যারের মতো নানা বিষয়ে বিপুল সম্ভাবনার কথা উচ্চারিত হচ্ছে সারাবিশ্বে।

এআই প্রধান কোম্পানি হিসেবে গুগলের জন্য এই সেন্টার বেশ গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে গুগলের ক্লাউড ও মেশিন লার্নিং বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেছেন, সিলিকন ভ্যালি, বেইজিং বা অন্য অনেক জায়গায় এর (এআই) প্রচলন থাকলেও সারাবিশ্বের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এআই এর অনেক সম্ভাবনা আছে।

চীনের গুগলের প্রায় ৬০০ কর্মী সরাসরি দুটি অফিসে কাজ করলেও রাষ্ট্রীয় সেন্সরশীপের (গ্রেট ফায়ারওয়াল) কারণে সার্চ ইঞ্জিনসহ গুগলের বিভিন্ন সেবা এখনও বন্ধ। তবে অবস্থার পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে বলে আশাবাদী সেখানকার গুগল কর্তারা।

হ্যাশট্যাগ কি, এবং কেনো ব্যবহার করা হয়?


বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে আমরা প্রতিদিনই #ট্যাগ (হ্যাশট্যাগ) কথা শুনে আসছি। এবং দেখে আসছি কেউ কেউ এটা ব্যবহার করছেন। তবে একসময় যখন ল্যান্ডলাইনের প্রচলন ছিল তখনো টেলিফোন সেটের সবগুলো বাটনের সঙ্গে আমাদের পরিচয় ছিলনা। তখন শুধু এক থেকে নয় এবং শুন্য বাটনের সঙ্গেই আমাদের সাধারণ মানুষের পরিচয় ছিল। তবে যারা তাদেন ফোন লক করে রাখতেন তাদের অবশ্য টেলিফোন সেটের হ্যাশ (#) এবং স্টার(*) বাটনের সঙ্গেও পরিচয় ছিল। কারণ ঐ রকম কিছু কিছু কাজে ব্যবহার করা হতো #ট্যাগ (হ্যাশট্যাগ) ও (*) স্টার বাটন।যখন মোবাইল ব্যবহার অনেক বেড়ে গেলো তখন এ দুইটি বাটনের সঙ্গে সবার বেশি বেশি পরিচয় ঘটে। কারণ মোবাইল ফোনে রিচার্জ করতে এবং ব্যালেন্স দেখতে এ দুইটি বাটনের প্রয়োজন হয়।

তবে গত কয়েক বছরে মোবাইলের বাটন ডায়াল করা ছাড়াও আমরা # বাটনের একটি ব্যবহার দেখছি। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর তা হলো, যেকোনো ইভেন্ট বা বিষয়কে একতাবদ্ধ করতে এর ব্যবহার। প্রায়ই আমাদের চোখে পড়ে হ্যাশট্যাগ (#ট্যাগ) সম্বলিত স্ট্যাটাস বা ছবি।

অনেকেই বুঝতে পারেন না, এই স্ট্যাটাস বা ছবির পেছনে কেনো আঠার মতো লেগে আছে হ্যাশ (#)। এটা দিয়ে ব্যবহারকারীরা কি বুঝাতে চাচ্ছেন?

আসলে এটাকে মাইক্রোব্লগিং এর ভাষায় বলা হয় হ্যাশট্যাগ। এটা একই ধরনের বক্তব্যকে একীভূত করে। যেমন, সামনে আসছে একুশের বই মেলা। এখন যদি কেউ মেলা সম্পর্কে তথ্য বা কোনো বক্তব্য দিতে ব্যবহার করে #একুশেরমেলা তবে বুঝতে হবে এই রিলেটেড আরো বক্তব্য বা তথ্য আছে এই হ্যাশট্যাগে।

আপনি যখন কোনো শব্দের শুরুতেই হ্যাশট্যাগ (#ট্যাগ) ব্যবহার করবেন তখন সেটি নীল বর্ণ ধারণ করবে। অর্থাৎ সেটা একটা লিংক-এ পরিণত হবে। পরবর্তিতে এই রিলেটেড সকল স্ট্যাটাস বা ছবি যদি একই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে দেয়া হয় তবে সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা সহজেই সব এক জায়গাতে পাবেন। অর্থাৎ এটি সবার মতামত এক করার একটি উদ্যোগ।

তবে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হয়, হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের সময় ব্যবহৃত শব্দে যাতে কোনো স্পেস না থাকে। স্পেস থাকলে এটা লিংক তৈরি করতে পারে না।

সাধারণত কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে হ্যাশট্যাগের ব্যবহার বেশি। ইদানিং অবশ্য এর বিভিন্ন ব্যবহার বেড়েছে। আজকাল সিনেমার প্রচারেও এর ব্যবহার ব্যাপক ভাবে হচ্ছে। আবার কেউ কোনো বিষয়কে প্রাধান্য দিতেও একই কাজ করেন। কেউবা শুধুই নিজেদের ভেতর আড্ডার জন্যেও এমনটা করতে পারেন।

হ্যাশট্যাগের ব্যবহার শুরু হয় মূলত মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে। পড়ে ২০১৩ সালের জুনে ফেসবুকেও এর ব্যবহার শুরু হয়। এখন গুগলপ্লাসেও এর ব্যবহার দেখা যায়। হ্যাশট্যাগের জনপ্রিয়তা এতো বেড়ে যায় যে শেষ পর্যন্ত ‘হ্যাশট্যাগ’ শব্দটি ২০১৪ সালের জুন মাসে অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতেও জায়গা করে নেয়।

শিশুদের জন্য ফেসবুকের বিশেষ সেবা


সারা দিনের শত কর্মব্যস্ততার মধ্যেও এক-দুবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঢুঁ মারা চাই-ই চাই। বিশেষ করে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের মধ্যে আগ্রহটা যেন আরো বেশি। তবে ফেসবুকের নীতিমালা অনুযায়ী ১৩ বছর বয়স না হলে অ্যাকাউন্ট খোলা যায় না।

অবশ্য অনেকেই বয়স বাড়িয়ে কারসাজি করে খোলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। তবে এখন সে সমস্যাও সমাধান হয়ে গেল। কেননা, এবার শিশুদের জন্যও সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটি ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে এসেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সময় সোমবার শিশুদের ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা একটি মেসেঞ্জার বাজারে ছেড়েছে ফেসবুক। তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত অ্যাপলের আইফোনেই মিলবে এই সুবিধা।

ফেসবুকের প্রোডাক্ট ম্যানেজার লরেন চেংয়ের বরাত দিয়ে খালিজ টাইমস জানায়, শিশুদের মেসেঞ্জারে থাকছে চ্যাটিং ও ভিডিওকলের সুবিধা। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সের শিশুরা ব্যবহার করতে পারবে মেসেঞ্জারটি। এ ক্ষেত্রে নজরদারি করতে পারবেন মা-বাবারা।

লরেন বলেন, ‘বাচ্চাদের জন্য একটি মেসেজিং অ্যাপের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যা একদিকে তাদের প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সহায়তা করবে, আবার মা-বাবার নিয়ন্ত্রণেও থাকবে।’

এক বিবৃতিতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ৯৩ শতাংশ শিশুর স্মার্টফোন অথবা ট্যাব ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ শিশুর নিজস্ব ফোন রয়েছে। ফলে তাঁরা ইচ্ছা করলেই ফেসবুকে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু এই বয়সে ফেসবুক তাদের জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে।

ফেসবুক জানায়, শিশুদের জন্য মেসেঞ্জারটি টেকনোলজির ইতিবাচক, নিরাপদ, সঠিক দিকগুলো তুলে ধরবে।

ইন্টারনেট কি? | ইন্টারনেট কীভাবে কাজ করে? | মহাবিস্তারিত


যখন আপনি ইন্টারনেট এ কারো সাথে চ্যাট করেন কিংবা কাওকে মেইল সেন্ড করেন তখন কখনো কি ভেবে দেখেছেন যে এই কাজ গুলো সম্পূর্ণ হতে কতোগুলো আলাদা কম্পিউটার একসাথে কাজ করে যাচ্ছে? আপনি টেবিলে বা কোলে আপনার কম্পিউটার নিয়ে বসে আছেন, আর আরেক প্রান্তে আপনার বন্ধু কম্পিউটার নিয়ে প্রস্তুত হয়ে বসে আছে আপনার সাথে যোগাযোগ করার জন্য। কিন্তু আপনি আর আপনার বন্ধুর কম্পিউটারের ফাঁকের মধ্যে আরো ডজন খানি কম্পিউটার রয়েছে যা আপনার আর আপনার বন্ধুর কম্পিউটারের মধ্যের ফাঁকা স্থান পূরণ করছে। আর এভাবেই একটি কম্পিউটারের সাথে আরেকটি কম্পিউটার সংযুক্ত রয়েছে গোটা পৃথিবী জুড়ে আর এটাই হলো দ্যা ইন্টারনেট। কিন্তু এই আলদা আলদা কম্পিউটার গুলো নিজেদের ভেতর সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হয় কীভাবে? বন্ধুরা চলুন এই সমস্ত বিষয়টি একদম কাছ থেকে পরিদর্শন করে আসি।
ইন্টারনেট কি?
বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যাবস্থা এখন অনেক উন্নত হয়ে গেছে আর এই সবই কৃতিত্ব তার, যার নাম হলো ইন্টারনেট। গত ২০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মোটামুটি ২১০টি আলাদা দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এর বিস্তার। এমনকি পৃথিবীর অনেক দরিদ্রতর দেশও সংযুক্ত হয়ে পড়েছে এই জালে।

আপনি আমি সহ বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন যে, ইন্টারনেট শব্দটির মানে হচ্ছে অনলাইনে চলে যাওয়া। কিন্তু সত্য কথা বলতে এটি একটি সাধারন কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ছাড়া আর কিছুই নয়। মনেকরুন একটি রাস্তার কথা যা পুরো পৃথিবী জুড়ে পেঁচিয়ে রয়েছে। যেমন করে রাস্তা দিয়ে ট্র্যাফিক বয়ে গিয়ে তার গন্তব্যে পৌঁছে ঠিক তেমনি বিভিন্ন কম্পিউটার দিয়ে ডাটা বয়ে গিয়ে তার গন্তব্যে পৌঁছে। আর এটাই হলো ইন্টারনেট এর মূল ভিত্তি। ইন্টারনেট হলো আসলে একেকটি আলাদা কম্পিউটারের একসাথে সংযুক্ত হয়ে থাকার একটি সিস্টেম (আপনার ঘরের কম্পিউটার, অফিসের কম্পিউটার, স্কুল কলেজের কম্পিউটার)।

একটি কম্পিউটারের সাথে আরেকটি কম্পিউটারের সংযোগ করা থাকে বিভিন্ন উপায়ে। কোন কম্পিউটার গুলো সংযুক্ত থাকে পুরাতন কপার ক্যাবল দ্বারা আবার কোন গুলো ফাইবার-অপটিক ক্যাবল (যা আলোর স্পন্দনের মধ্যে ডাটা সেন্ড করে) দ্বারা আবার কোন কম্পিউটার গুলো বেতার কানেকশানে যুক্ত থাকে (বেতার কানেকশান মানে আমরা যাকে ওয়্যারলেস বুঝি, এটি রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করে) এবং কোন কম্পিউটার গুলো স্যাটালাইটের সাথে সংযুক্ত থাকে। আর এইভাবেই আমরা উপভোগ করতে পারি ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেজ সুবিধা, ইমেইল সেবা, অথবা ডাউনলোড করি এমপিথ্রী মিউজিক ফাইলস।
ইন্টারনেটের আসল কাজ কি?

ইন্টারনেটের চাকরিটা আসলে খুব সহজ, সে শুধু এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ডাটার আদান এবং প্রদান করে, ব্যাস। যে মেশিন গুলো একত্রিত হয়ে ইন্টারনেট তৈরি করেছে তাদের প্রধান কাজই হলো ডাটা আদান আর প্রদান। বাস্তবিকভাবে তুলনা করতে গেলে ইন্টারনেটকে পোস্টাল সার্ভিসের সাথে তুলনা করা যায়।

পোস্টাল সার্ভিসে চিঠি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আদান প্রদান করা হয়। কিন্তু এটা কোন ব্যাপার না যে চিঠি কার কাছ থেকে আসলো বা চিঠির ভেতর কি লেখা আছে। আবার চিঠি একদম ফাঁকা থাকলেও পোস্টাল সার্ভিসের কোন যায় আসে না। তার কাজ চিঠি পৌঁছানো ব্যাস তা পৌঁছে দেবে। ইন্টারনেটও একইভাবে কাজ করে।

পোস্টাল সার্ভিসের মতো ইন্টারনেটও অনেক তথ্য ধারণ করে তা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পৌঁছে দেয়। এরমানে হলো যদি কোন ডাটা আদান প্রদান করানো হয় তবে ইন্টারনেট সেটি সম্পূর্ণ করে দেবে। এখন আপনি ইমেইল পাঠালেন না কাওকে ম্যাসেজ করলেন এর সাথে ইন্টারনেটের কোন লেনাদেনা নেই। তবে যে কাজেই ডাটা আদান প্রদান করার বিষয় আছে সেটিই ইন্টারনেট সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করবে, ব্যাস। এখন এই ডাটা আদান প্রদানের সূত্রের উপর ভিত্তি করে আমরা নতুন নতুন ব্যবহার খুঁজে বেড় করছি। যেমন যখন দুই ইউরোপিয়ান বিনিয়োগকারী স্কাইপ তৈরি করলেন তখন তারা টেলিফোনের কথা বলাকে নেটে নিয়ে আসলেন। তারা একটি প্রোগ্রাম তৈরি করলেন যেখানে আমাদের কথা ডাটাতে পরিণত হতে পারে এবং তা আদান প্রদানের মাধ্যমে কথাবার্তা চলতে থাকে। কিন্তু কখনোয় সরাসরি আমাদের কথা আদান প্রদান করিয়ে স্কাইপের জন্য আলাদা ইন্টারনেট তৈরি করা সম্ভব ছিল না।
ইন্টারনেটের ডাটা গুলো কীভাবে আদান প্রদান করা হয়?

ইন্টারনেট মূলত টেলিফোন নেটওয়ার্ক এর মতো কাজ করে থাকে। কিন্তু ইন্টারনেটের ডাটা বহন করা আর টেলিফোন লাইনে কল করা আলাদা ব্যাপার। আপনি যখন আপনার কোন বন্ধুকে রিং করেন তখন আপনার টেলিফোনে আপনি এবং আপনার বন্ধুর মধ্যে একটি সরাসরি কানেকশান (বা সার্কিট) ওপেন হয়ে যায়। আপনি যতক্ষণ টেলিফোনে কানেক্ট হয়ে থাকেন, সার্কিটটি ততোক্ষণ ওপেন হয়ে থাকে। একটি টেলিফোনের সাথে আরেকটি টেলিফোনকে কানেক্ট থাকার পদ্ধতিকে সার্কিট সুইচিং বলা হয়। কখন কার কথা শোনা যাবে আর কার কথা পাঠানো হবে তা নিয়ন্ত্রন করে ইলেক্ট্রনিক টেলিফোন এক্সচেঞ্জ সিস্টেম।

কিন্তু বন্ধুরা একটু ভেবে দেখলে বুঝতে পারবেন যে, সার্কিট সুইচিং কোন নেটওয়ার্ক স্থাপন করার জন্য সত্যিই অদক্ষ একটি পদ্ধতি। আপনি যখনই ফোনে আপনার বন্ধুর সাথে সংযুক্ত হয়ে থাকবেন তখন সেই লাইনে আপনার সাথে অন্য কেউ সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেনা। (মনে করুন, আপনি কাওকে একটি ইমেইল টাইপ করছেন, টাইপ করতে ঘণ্টা লেগে যেতে পারে, আর এই সময়ে যদি আপনাকে আর কেউ কোন মেইল সেন্ড করতে না পারে তবে?) মনে করুন আপনি টেলিফোনে অনেক ধিরেধিরে কথা বলছেন বা কথা বলতে বলতে লম্বা ফাঁকা নিচ্ছেন বা কথা বলতে গিয়ে ফোন রেখে কফির মগ আনতে গেলেন। তো আপনি তো তখন কোন তথ্য প্রেরন করছেন না, কিন্তু তারপরেও আপনার ফোন আপনার বন্ধুর ফোনের সাথে কানেক্টেড হয়ে রয়েছে। আপনাকে প্রত্যেকটা সেকেন্ডের জন্য বিল চার্জ করা হচ্ছে এবং আপনি কথা বলুন আর নাই বলুন ফোন কানেক্টেড থাকা মানে আর অন্য কেউ সেই লাইনে ফোন করতে পারবে না। তাই সার্কিট সুইচিং কখনোয় আদর্শ নেটওয়ার্ক হতে পারে না। তাহলে ইন্টারনেট কি ধরনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ডাটা বহন করে?
প্যাকেট সুইচিং

ইন্টারনেট তার ডাটা বহন করতে এখনো কখনো কখনো সার্কিট সুইচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। যেমন আপনি যদি ডায়াল-আপ কানেকশান (যেখানে আপনার কম্পিউটার আপনার ইন্টারনেট প্রদানকারীর কাছে পৌঁছাতে একটি টেলিফোন নাম্বার ডায়াল করে, আর এটি কোন সাধারন ফোন কলের মতোই কাজ করে) ব্যবহার করেন ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হতে। এখানে আপনি অনলাইনে আসার জন্য সার্কিট সুইচিং পদ্ধতি ব্যবহার করলেন। তাই আমি কানেক্টেড থাকা পর্যন্ত কেউ আপনাকে ফোন করতে পারবেনা। এবং আপনাকে কানেক্ট থাকার প্রত্যেক সেকেন্ডের জন্য টাকা দিতে হবে। এবং বদলে আপনার নেট কানেকশান কাজ করবে একদম কচ্ছপ গতিতে।

কিন্তু বেশিরভাগ ইন্টারনেট ডাটা বহন করা হয়ে থাকে সম্পূর্ণ নতুন এক পদ্ধতিতে যার নাম হলো প্যাকেট সুইচিং। মনে করুন আপনি আপনার কোন ইন্ডিয়ান বন্ধুকে ইমেইল পাঠাতে চাচ্ছেন। তো এখানে আপনার ইন্ডিয়ান বন্ধু এবং আপনাকে সরাসরি কানেক্টেড থাকার কোন প্রয়োজন নেই এই সম্পূর্ণ মেইলটি একবারে পাবার জন্য। প্যাকেট সুইচিং এ আপনার মেইলটি পাঠানোর পরে তা অনেক গুলো খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায়। আর এই প্রত্যেকটি খণ্ডকে বলা হয়ে থাকে প্যাকেটস। প্রত্যেকটি প্যাকেটের গায়ে ট্যাগ করা থাকে যে তাদের কথায় যেতে হবে এবং তারা আলদা আলদা পথে ভ্রমণ করতে পারে। খণ্ডগুলো যখন তাদের গন্তব্যে পৌঁছে যায় তখন সেগুলো আবার একত্রিত হয়ে যায়, যাতে তা মেইল রূপে প্রদর্শিত হতে পারে।

প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতি সার্কিট সুইচিং পদ্ধতি হতে অনেক বেশি দক্ষ হয়ে থাকে। আপনার কখনোয় প্রয়োজন পড়বে না কারো সাথে একেবারে কানেক্টেড হয়ে থাকার। তাই আপনি কারো লাইন একদমই বন্ধ করে রাখছেন না। অন্য কেউ একই সময়েই একই লাইন ব্যবহার করতে পারে। এবং নির্দিষ্ট প্যাকেট গুলো ঠিক মতোই আপনার ঠিকানায় পৌঁছে যাবে। যেহেতু প্যাকেট গুলো আলাদা আলাদা পথে ভ্রমন করে পৌছায় তাই কোন বাঁধা বিঘ্ন ঘটে না। ফলে অনেক ফাস্ট স্পীড দেখতে পাওয়া যায়।
প্যাকেট সুইচিং কীভাবে কাজ করে?

প্যাকেট সুইচিং কীভাবে কাজ করে তা বোঝার আগে আপনার বোঝা দরকার যে কীভাবে সার্কিট সুইচিং কাজ করে তার সম্পর্কে। মনে করুন আপনি অ্যামেরিকাতে থাকেন এবং বাংলাদেশে চলে আসার প্লান করলেন। মনে করুন আপনি শুধু আপনার মালপত্র নয় বরং সাথে আপনার বিল্ডিং ও তুলে নিয়ে আসার কথা ভাবছেন 😛 তবে ভেবে দেখুন একটি দুঃস্বপ্নের কথা যেখানে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে আপনার গোটা বাড়ি বহন করে নিয়ে আসছেন। তাহলে আপনাকে কি করতে হবে?

প্রথমত একটি এমন রাস্তা দেখতে হবে যা দিয়ে সহজে আপনি ভ্রমন করতে পারবেন। তারপরে আপনার কিছু ট্রাকের প্রয়োজন পড়বে। এবং সমুদ্র পার করার জন্য আপনার প্রয়োজন পড়বে একটি স্পেশাল জাহাজ। ভেবে দেখুন পুরা ব্যাপারটা কতটা কঠিন হয়ে পড়লো। আর এতো কিছু একসাথে বহন করার জন্য আপনি কয়েকদিন পিছিয়ে যাবেন। কারন আপনার গন্তব্য অনেক স্ল্যো হয়ে যাবে। আবার ঐ একই রাস্তায় যদি অন্যকেউ আসার চেষ্টা করে তবে সেও বাঁধাগ্রস্থ হয়ে পড়বে। আসলে সার্কিট সুইচিং পদ্ধতি এই একইভাবে কাজ করে। এবং এই পদ্ধতিতেই টেলিফোন কল হয়ে থাকে।

এখন আরেকটি অবস্থা কল্পনা করুন। মনে করুন আপনি আপনার বিল্ডিংটি খুলে ফেললেন এবং প্রত্যেকটা ইট নাম্বারিং করলেন। প্রত্যেকটি ইটকে একেকটি খামে ভরলেন এবং একেকটি পথে তা আপনার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিলেন। কোন গুলো গেলো হয়তো জাহাজে আবার কোন গুলো গেলো হয়তো আকাশ পথে। তারপর যখন সব ইটগুলো একত্রে পৌঁছে গেলো তখন ইটগুলোর নাম্বার গুলো মিলিয়ে আবার আগের বিল্ডিং তৈরি হয়ে যাবে। যেহেতু ইটগুলো আলাদা আলাদা রাস্তা দিয়ে ভ্রমন করে এসেছে তাই রাস্তায় কোন জ্যামের সৃষ্টি করবে না। এবং অন্যরা একই সময়ে একই রাস্তা ব্যবহার করতে পারবে।

আর ঠিক এই পদ্ধতিতেই প্যাকেট সুইচিং কাজ করে। যখন আপনি ইমেইল করেন বা ব্রাউজার দিয়ে কোন সাইট ব্রাউজ করেন তখন সকল ডাটাগুলো অনেক গুলো প্যাকেটে বিভক্ত হয়ে যায় এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।
কীভাবে কম্পিউটাররা ইন্টারনেটে বিভিন্ন কাজ করে থাকে?

পুরো ইন্টারনেট জুড়ে শতশত মিলিয়ন কম্পিউটার রয়েছে। কিন্তু এরা প্রত্যেকেই কিন্তু একই কাজ করে না। এদের মধ্যে কিছু কম্পিউটার শুধু তথ্য সংগ্রহ করে রাখে এবং কোন তথ্য কোথাও থেকে অনুরোধ করা হলে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আর এই মেশিন গুলোকে বলা হয় সার্ভার। যে মেশিন গুলো কোন ডকুমেন্ট স্টোর করে রাখে তাদের বলা হয় ফাইল সার্ভার। যে সার্ভার গুলো আপনার আমার মেইল ধারণ করে রাখে, এদের বলা হয় মেইল সার্ভার। এবং যে সার্ভার গুলো ওয়েবপেজ ধারণ করে রাখে তাদের বলা হয় ওয়েব সার্ভার। ইন্টারনেটে বহুত মিলিয়ন সার্ভার রয়েছে।

যে কম্পিউটার গুলো সার্ভার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এদের বলা হয় ক্লায়েন্ট কম্পিউটার। আপনি যখন মেইল চেক করার জন্য ইন্টারনেটে প্রবেশ করেন তখন আপনার কম্পিউটারটি হলো ক্লায়েন্ট, আপনার আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার) হলো সার্ভার এবং মেইলটি আসে মেইল সার্ভার থেকে। ইন্টারনেটে সার্ভারের তুলনায় ক্লায়েন্টের সংখ্যা বেশি, প্রায় বিলিয়ন খানেক।

যখন দুটি কম্পিউটার একে অপরের সাথে তথ্য আদান প্রদান করতে থাকে তখন একে বলা হয়ে থাকে পিরস (Peers)। আপনি যদি আপনার বন্ধুর সাথে ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেজিং করেন বা ফটো আদান প্রদান করেন তবে এটি হলো পির টু পির (peer-to-peer) (P2P) কমুনিকেসন। পি টু পি তে কখনো আপনার কম্পিউটার ক্লায়েন্ট হিসেবে আচরন করে আবার কখনো আপনার কম্পিউটার সার্ভার হসেবে আচরন করে। মনে করুন আপনি আপনার বন্ধুকে ফটো সেন্ড করলেন, তখন আপনার কম্পিউটার সার্ভার হিসেবে কাজ করলো (ফটো সেন্ড করলো)। এবং আপনার বন্ধুর কম্পিউটার ক্লায়েন্ট হিসেবে কাজ করবে (ফটো অ্যাক্সেস করবে)। আবার আপনার বন্ধু ফটো সেন্ড করলে তার কম্পিউটার সার্ভার হিসেবে কাজ করবে (ফটো সেন্ড করলো) আর আপনার কম্পিউটার এবার ক্লায়েন্ট হিসেবে কাজ করবে (ফটো অ্যাক্সেস করবে)।

শুধু সার্ভার এবং ক্লায়েন্ট ছাড়াও আরেকটি মধ্যম কম্পিউটার রয়েছে যা ইন্টারনেটের আরেকটি অংশ। আর এর নাম হলো রাউটার। এটি শুধু আলাদা সিস্টেমের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে থাকে। আপনার বাড়িতে বা স্কুলে বা অফিসে যদি একাধিক কম্পিউটার থাকে তবে রাউটার সকলকে একত্রিত করে ইন্টারনেটে কানেক্ট করতে সাহায্য করে।

টিসিপি/আইপি (TCP/IP) এবং ডিএনএস (DNS)

ইন্টারনেটে ডাটা আদান প্রদান করার আসল ব্যাপারটি কিন্তু মোটেও কোন ঘরের ইট খামে করে বহন করার মতো সহজ নয়। ইন্টারনেটের ডাটা গুলো কোন মানুষ যেমন আপনি বা আমি দ্বারা নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব নয়। প্রত্যেকটি দিন নেটে অসংখ্য ডাটা আদান প্রদান করা হয়ে থাকে—খসড়া ভাবে প্রায় ৩ বিলিয়ন ইমেইলস এবং প্রচুর পরিমানে ট্র্যাফিক বিভিন্ন ডাটা ডাউনলোড এবং আপলোড করছে বিশ্বের ২৫০ মিলিয়ন ওয়েবসাইট জুড়ে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যদি এই সকল ডাটা গুলোকে প্যাকেটে পরিণত করে পাঠানো হয়ে থাকে এবং কারো যদি কোন কন্ট্রোলই না থাকে তবে কীভাবে এই প্যাকেট গুলো না হারিয়ে প্রত্যেকে আসল গন্তব্যে পৌঁছে যায়?

আর এর উত্তর হচ্ছে টিসিপি/আইপি (TCP/IP) বা ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল প্রোটোকল/ইন্টারনেট প্রোটোকল। এই সিস্টেমটিই সকল প্যাকেট গুলোকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। এটি বলতে পারেন টু ইন ওয়ান সিস্টেম। কম্পিউটারের দুনিয়ায় “প্রোটোকল” মানে হলো একটি স্ট্যান্ডার্ড যা প্রত্যেকে বিশ্বাস করে এবং সকল জিনিষ নিশ্চিতভাবে পৌঁছে গেছে তা নিশ্চিত করে। এখন আপনার মনে অবশ্যই প্রশ্ন জাগছে যে, টিসিপি/আইপি আসলে কি কাজ করে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

ইন্টারনেট প্রোটোকল বা আইপি হলো একটি সাধারন অ্যাড্রেসিং সিস্টেম। ইন্টারনেটে অবস্থিত সকল মেশিন আমারটা আপনারটা সবারটাতেই একটি ভিন্ন আইপি থাকে। যখন প্রত্যেকটি মেশিনে আলাদা আলাদা আইপি থাকবে তখন কোন মেশিন কোনটা তা সহজেই চেনা যাবে এবং সে অনুসারে প্যাকেট পাঠানো সম্ভব হয়ে থাকে। আইপি অ্যাড্রেস মূলত কিছু সংখ্যার সন্নিবেশ হয়ে থাকে। এবং সংখ্যা গুলো কমা বা কোলন ব্যবহার করে আলাদা করা হয়ে থাকে।

ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু আলাদা হয়ে থাকে। ওয়েবসাইটে আইপির বদলে সহজে মনে রাখার জন্য নাম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন (Techubs.Net)। এই সিস্টেমের নাম হলো ডিএনএস বা ডোমেইন নেম সার্ভার। ডোমেইন নেম ব্রাউজারে প্রবেশ করানোর পড়ে কম্পিউটার এই আইপি খুঁজতে আরম্ভ করে এবং আইপি খুঁজে পেলে ওয়েব সার্ভার থেকে সাইট ওপেন হয়ে যায়।

আইপি মূলত দুই প্রকারের হয়ে থাকে। একটি হলো IPv4 এবং আরেকটি IPv6। আইপিভি৪ এ চার খণ্ডের ডিজিট থাকে। যেমন 12.34.56.78 অথবা 123.255.212.55। কিন্তু দ্রুত বর্ধমান ইন্টারনেট জগতে আজ আর নতুন কোন আইপিভি৪ অ্যাড্রেস অবশিষ্ট নেই। তাই নতুন এক সিস্টেম উদ্ভবন করা হয়েছে যার নাম হলো আইপিভি৬। এটি আইপিভি৪ এর তুলনায় অনেক লম্বা। 123a:b716:7291:0da2:912c:0321:0ffe:1da2 হলো আইপিভি৬ এর উদাহরণ। [আইপি অ্যাড্রেস নিয়ে আরো জানুন]

এই কন্ট্রোল সিস্টেমের আরেকটি অংশ হলো ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল প্রোটোকল বা টিসিপি। এই সিস্টেমটি নির্ধারণ করে যে, একটি আইপি থেকে আরেকটি আইপিতে কীভাবে প্যাকেট সেন্ড করতে হবে। এবং এই সিস্টেমটি রিসিভ হওয়া প্যাকেট গুলোকে একত্রিত করে। আবার প্যাকেট সেন্ড করার সময় কোন প্যাকেট হারিয়ে গেলে আবার রি-সেন্ড করে।

খবর: techubs.net